তুমি আমার, একটাই তুমি

জীবন পথের অলি গলি পেরিয়ে

যখন দেখা তোমার সাথে

তখন থেকেই হারাই আমি

হারাই আমি তোমার মাঝে

একক দশক হাজার খানেক

ঘণ্টা পেরোয় টিক টক টিক

তখন থেকেই তুই কি আমার?

আমি তোমার এটাই সঠিক

রাত্রি বিলীন তোর ভাবনায়

স্বপ্ন জুড়েও একাই তুমি

তোর চোখেতে চোখটা রেখেই

মরব আমি এটাই জানি

খুব যে চাওয়ার ছোট্ট ঘর এক

তোকে নিয়েই সাঁজাই তাকে

রাতের বেলায় ঘুম পারাবো

ভাঙবে যে তা আমার ডাকেই

উপচে পড়া ভালোবাসায়

দেবশিশুরা খেলছে সেথায়

রাঁধন বাড়ন ব্যাস্ত আমি

সুখ যে ভীষণ তোকে নিয়েই

এই জীবনের পর জীবনেও

আসে যদি লক্ষ জীবন

রাখিস জেনে, চাইছি তোকেই

তুই যে আমার ভীষণ আপন

বাতাসের ডানায় ভাসিয়ে দেয়া কিছু কথা

প্রিয় “তুমি”,

 

কি করছ এখন?

বন্ধুদের সাথে আড্ডা

প্রিয় গান বা মুভি

অথবা চুপচাপ স্মৃতিচারণ?

আচ্ছা চোখ বন্ধ করে দেখো তো

একবারও কি আমায় দেখতে পাও?

অথচ জানো কি

আমার সারাবেলা জুড়ে থাক তুমি

সেদিন খাতার পাতা উল্টে দেখি

সবখানেই শুধু তোমার নাম

বাসায় কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ

খেই হারিয়ে ফেলেছিলাম

কি যে হল!

তুমি আমার ডাক্তার হবে?

জানো আমি অনেকদিন কোন স্বপ্ন দেখিনি

দেখতে পারিনি

তোমায় দেখার পর থেকে যে

সব ভুলে গিয়েছি

এখন যখন সামনে তাকাই

শুধু তোমাকে কেন্দ্র করেই

সব ভাবনা ভেবে যাই

আচ্ছা,

আমার কান্না ভেজা চোখ দেখতে তোমার ভালো লাগে?

তুমি যখন আমার সাথে থাকবে

আমি ভীষণ কাঁদবো দেখো

তবে সেগুলো তো সব সুখের কান্না!

আমি যে ভীষণ স্বার্থপর

বুঝতে পেরেছ কি?

তুমি তো আমার একটাই তুমি

এইকারনেই সব পাগলামি

জানো আমার না খুব হারিয়ে যাবার ভয়

একবার হারিয়ে গেলে যে আর ফেরা যায় না

ফিরতে নেই

তুমি আমায় শক্ত করে ধরে রেখ

আমার না খুব বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে

তোমাকে নিয়ে

ভালোবাসি তোমাকে

 

তোমারই “আমি”

পথের শেষ প্রান্তে তুমি আছ

পথের শেষ প্রান্তে তুমি আছ

শুধু এই ভেবেই এক একটি দিন পার করি

শুধু তোমাকে ভেবেই

জীবনের নকশী কাঁথায় স্বপ্ন বুনে যাই

শুধু তোমার জন্য

প্রতিদিন হৃদ স্পন্দন ঢিপ ঢিপ ঢিপ ঢিপ

শুধু তোমার জন্যই

……………….

এই ভালোবাসার উঠোন

অবেলার রোদন

অসময় ঘুম ভাঙ্গা

ভাবনায় লাজ রাঙ্গা

বাড়ানো দুটি হাত

তারা দেখা প্রতিটি রাত

কাজল চোখে বাঁকা টিপ

আঁধার ঘরে একটি প্রদীপ

……………….

শুধু তোমার জন্যই

এই আমি

হৃদয়

আমি ভুলেই গিয়েছিলাম যে আমার হৃদয় বলে কিছু আছে
যখন টের পেলাম
ততদিনে সেটা হাতছাড়া হয়ে তোমার কাছে
আমি আমার হৃদয়টা আর ফেরত চাই না
ওটা এখন তোমার সম্পদ
একটু যত্নে রেখ
আর যদি পার তোমার হৃদয় আমায় দিও
আর কিছু চাই না আমি

দিনযাপন

এই শহরে কত মানুষ

হাসিখুশি বা দৈনন্দিন জীবন যাপনে ব্যাস্ত

আর আমি এখানে থেকেও

মন হারিয়েছি ৭০০০ মাইল দূরে

তোমার শহরে

এই শহরে যখন সকাল হয়

তোমার ওখানে সন্ধ্যা নামে

আমি যখন চা এর কাঁপে চুমুক দেই

তোমার হাতে তখন কফির মগ

এখানে ঘড়ির কাটায় সময় কাটে ঠিকই

কিন্তু আমি পড়ে রই তোমার ওখানে

আমি চোখ মেলেও এখানে

তোমাকেই দেখি

আর চোখ বুজলে

আমাদের দেখি

সকালের সূর্যোদয়

বিকেলে তুষারপাত

রাতের নিস্তব্ধতা

কিছুই স্পর্শ করে না আমায়

এই শহর বড় বেশি শুন্য

তুমি ছাড়া

আমি এ শহরে বাস করি না

থাকে আমার কোন ছায়া

তাই প্রকাশ করতে পারি না

মনের কোন কথা

স্থানিক দূরত্বের যন্ত্রণায়

ছটফট করি

অপেক্ষা করি সেই সময়ের

যখন ছায়া থেকে মানবী হব

তখন এই শহরে থাকবে চিরন্তন রংধনু

আর পাশে থাকবে তুমি

স্বপ্ন শেকড়

আমার শহরে তখন ছিল অবিশ্রান্ত কুয়াশা

বা রৌদ্র উঠলেও, তীক্ষ্ণ শলাকায়

বিদ্ধ করত মন ভাঙ্গা এই আমাকে

আমি ভেবেছিলাম আর কখনো সূর্য দেখব না

কিন্তু দেখেছি আমি

যখন দেখেছি তোমাকে

কখনো ভাবিনি এত ভালোবাসা জমা আছে

হৃদয়ের গভীরে

তোমায় নিয়ে দেখা ভালোবাসার ভীরু স্বপ্ন

এখন যে স্বপ্নের মহীরুহ হয়ে

আঁকড়ে আছে এই আমাকে

মাঝে মাঝে আমি নিজেই ছুঁতে পারি না

গভীরতম স্বপ্নের শাখা প্রশাখা গুলোকে

অপেক্ষায় থাকি যখন তুমি সামনে এসে

ধরবে এ হাত

স্বপ্নগুলো ধরা দেবে আমাদের মুঠোয়

জীবন বইয়ের কিছু কথা

জীবন বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাতে উল্টাতে

কোন এক ক্ষনে এসে তোমার দেখা পেলাম

অবাক মুহূর্তগুলো কেটে গেল যেন এক নিমিষে

ভয় পেলাম পরের পৃষ্ঠায় যেতে

যদি আর তোমার দেখা না পাই

তুমি হেসে বললে পাবে আমায় প্রতিটি ক্ষণেই

প্রতিটি পৃষ্ঠায়

 

তারপর হাসি কান্নায় অনুভবে

দিলাম পাড়ি সেকেন্ড মিনিট ঘণ্টা

কোন পাতায় তোমার নাম না পেলেও

কি করে যেন

এই দুচোখ খুঁজে নেয় তোমার নামের অক্ষরগুলো

অনেকটা ছোটবেলায় শেখা জোড় মেলাও খেলার মত

অথবা অক্ষরগুলোই হয়ে যায় তোমার মুখের প্রতিচ্ছবি

বয়ে চলে অপলক ক্ষণকাল

 

কিন্তু জানো কি সখা

কখনো কখনো কোন পৃষ্ঠা দেখতে পাই

যেখানে তুমি নিজ হাতে কাটাকুটি করেছ কিছু লাইন

ভয় কি প্রিয়

এইতো আমি, থাকবও সবসময়

মনে কি পরে না কথা দেয়ার সেই ক্ষণটি

বুঝতে কি পার না আমায়

জানি না আমার এই জীবন বইয়ের কটি পৃষ্ঠা দেখার বাকি আছে

তা যদি হয় গুটিকয়েক, বা হাজার অথবা লাখখানেক

সবকটাই যে তোমার হাতে তুলে দিয়েছি

দুজনে মিলে লিখবো আমাদের জীবনকথা

হাসার সময় হাসবো, কান্নার সময় কাঁদবো

ঝড় সময়ে হাতে হাত রেখে দাঁড়াব একসাথে

 

অথবা

যদি পুড়ে যাই তুমিহীনতায়

ফিনিক্স পাখী হওয়ার ইচ্ছে নেই

ছাই হয়ে মিশে যাব এই মাটিতে

মিশে যাওয়ার আগে বলে যাব একটি কথাই

এই মেয়েটি বড় ভালবাসত তোমায়

পথের সাথী

যদি পথহারা হও

আমরা একসাথে পথ খুজে নেব

যদি মনহারা হও

আমার মনের রঙেই রাঙিয়ে নিও

তোমার মন

ভালোবাসায় জেগে উঠবে সে মন

জীবন পথের এই সাথীকে

তোমার কাছে আসতে দিও

চিনতে দিও

যে তোমার পাশে থাকতে চায়

কালবোশেখি ঝড়ের পরেও সে পাশেই থাকবে

অন্ধকারেও খুজে নিবে তোমায়

ধরে রাখবে তোমার হাত

শক্ত করে

আমাদের স্বপ্ন

ভালোবাসি- সেতো কবেই বুঝেছি

কত দিন রাত কাটিয়েছি সময়

সাজিয়েছি স্বপ্ন

তোমায় নিয়ে

বলতে চেয়েছি ভালবাসার কথা

হয়ত ভাষায় প্রকাশিত নয় সে কথা

কিন্তু চোখের ভাষা তো বুঝেছ

আজ এই ঝড় সময়েও তোমার কথাই ভাবি

শীত রাত্রির ক্লান্ত ফুটপাথে দাড়িয়ে নিজেকে প্রশ্ন করি

প্রতিবার তোমার ছবিই ভাসে এই মনে

কষ্ট প্রহর শেষে এই মন বুঝতে পারে

আমি শুধু তোমাকেই চাই

হাত টা যখন বাড়িয়েছ

শক্ত করে ধরে রাখ আমায়

স্বপ্নগুলো পূরণ করব আমরা একদিন- একসাথে

তখন

কষ্ট প্রহর হবে স্বপ্ন প্রহর

ঝড় সময় হবে ভালবাসার সময়

শিশুরা খেলবে

আমাদের ভালবাসার উঠোনে

তোমার জন্য আমি

মনের কি চাবি থাকে

অথবা কোন সোনার কাঁঠি রুপার কাঁঠি

যার ছোঁয়াতে এ মন হাসে

সোনালী স্বপ্নে বিভোর হয়

বা হারাবার ভয়ে কাঁপে

সেই চাবি কখন যে তোমার কাছে পৌঁছে গেল

জানি না আমি

তবে ভালবাসার ইথারে ভেসে সেই চাবি এখন তোমার হাতে

আমি তো অস্তিত্বহীন ছিলাম

এমনকি ছিল না মনের কোন আদল

কখন যে এ মন সংজ্ঞা পেল তোমার হাসিতে

জানি না আমি

তবে ভালবাসার জোয়ারে এই আমি জানি

আমার সারাবেলা কাটে তোমার ভাবনায়

আমার পৃথিবী হাসে তোমায় দেখলে

আমার বেঁচে থাকা পরিপূর্ণতা পায় তোমায় পেলে

আমি

এইতো আমি

তোমার জন্যই।